img

টালিউড অভিনেত্রী ও সাবেক সংসদ সদস্য মিমি চক্রবর্তীর সঙ্গে দুর্ব্যবহার, মঞ্চ থেকে নামিয়ে দেওয়া এবং পুলিশি তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতারের পর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন অনুষ্ঠানের অন্যতম আয়োজককারী তনয় শাস্ত্রী। 

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় তাকে বনগাঁ মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে অসুস্থ শরীরেও তার আচরণে অনুতাপের লেশমাত্র নেই। হাসপাতালের বেডে শুয়েই মিমি চক্রবর্তীকে ‘ছেড়ে দেবেন না’ বলে হুমকি দেন তনয় শাস্ত্রী।

অন্যদিকে তনয় শাস্ত্রীর সেই হুমকিকে বিশেষ কোনো গুরুত্ব দিতে নারাজ মিমি চক্রবর্তী। তিনি বলেন, একজন মানুষকে যতটা গুরুত্ব বা ফুটেজ দেওয়া উচিত নয়, আমরা ইতোমধ্যে তার চেয়েও বেশি দিয়ে ফেলেছি।

জানা গেছে, গত রোববার বনগাঁর নয়াগোপালগঞ্জ যুবক সংঘের পরিচালনায় একটি বার্ষিক অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত ছিলেন অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী। সেখানে রাত সাড়ে ১০টার দিকে তার অনুষ্ঠানের সময় নির্ধারিত থাকলেও অভিযোগ ওঠে— অভিনেত্রী  প্রায় এক ঘণ্টা দেরিতে পৌঁছান। মঞ্চে উঠতে উঠতে সময় গড়িয়ে পৌনে ১২টা হয়ে যায়। প্রশাসনের নির্দেশ অনুযায়ী, অনুষ্ঠান চলার অনুমতি ছিল রাত ১২টা পর্যন্ত। সে কারণে তাকে মঞ্চ থেকে নামিয়ে দেওয়া হয় বলে ক্লাবের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

এ ঘটনার পর বনগাঁ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন মিমি চক্রবর্তী। অভিযোগে বলা হয়েছে— অনুষ্ঠান চলাকালীন ক্লাবের কর্মকর্তা তনয় শাস্ত্রী আচমকাই মঞ্চে উঠে পড়েন এবং তার গান বন্ধ করে তাকে নামিয়ে দেওয়া হয়। এতে অপমানিত ও হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন অভিনেত্রী। 

তবে ক্লাবের কর্মকর্তা রাহুল বসু ও শোভন দাস এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন—মিমি চক্রবর্তীকে কোনো অসম্মান করা হয়নি। তিনি এক ঘণ্টা দেরিতে,  রাত সাড়ে ১১টার পর মঞ্চে ওঠেন। প্রশাসনের সময়সীমা এবং মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের কথা ভেবেই ঠিক রাত ১২টায় অনুষ্ঠান বন্ধ করা হয়। অনুষ্ঠান বন্ধের ঘোষণাকে উনি অসম্মান ভেবে থাকলে সেটি দুর্ভাগ্যজনক। তবে তাকে সসম্মানেই বিদায় জানানো হয়েছে।

মিমি চক্রবর্তীর অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তিন দিন পর বৃহস্পতিবার দুপুরে তনয় শাস্ত্রীর বাড়ি থেকে তাকে আটক করে বনগাঁ থানায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরে গ্রেফতার করা হয়। তবে গ্রেফতারের সময় পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। 

এদিকে তনয় শাস্ত্রীর বাড়ির সামনে একাধিক নারী জড়ো হয়ে পুলিশকে আটকানোর চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশকে ধস্তাধস্তির মধ্য দিয়েই বাড়িতে ঢুকে অভিযুক্তকে বের করে আনতে হয়। এ ছাড়া পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে তনয় শাস্ত্রীসহ মোট তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বর্তমানে গোটা ঘটনা ঘিরে তদন্ত চলছে।

এই বিভাগের আরও খবর